Header Ads Widget

কর্তার ভূত//একাদশ শ্রেণি//রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর//kortar bhoot//class 11//rabindranath Tagore

Part-1
বুড়াে কর্তার মরণকালে দেশসুদ্ধ সবাই বলে উঠল , “ তুমি গেলে আমাদের কী দশা হবে । শুনে তারও মনে দুঃখ হল । ভাবলে , “ আমি গেলে এদের ঠান্ডা রাখবে কে । তা বলে মরণ তাে এড়াবার জো নেই । তবু দেবতা দয়া করে বললেন , ‘ ভাবনা কী । লােকটা । হয়েই এদের ঘাড়ে চেপে থাক না । মানুষের মৃত্যু আছে , ভূতের তাে মৃত্যু নেই । দেশের লােক ভারি নিশ্চিন্ত হল । কেন না ভবিষ্যৎকে মানলেই তার জন্যে যত ভাবনা , ভূতকে মানলে কোনাে ভাবনাই নেই ; সকল ভাবনা ভূতের মাথায় চাপে । অথচ তার মাথা নেই , সুতরাং কারও জন্যে মাথাব্যথাও নেই । তবু স্বভাবদোষে যারা নিজে ভাবতে যায় তারা খায় ভূতের কানমলা । সেই কানমলা না যায় ছাড়ানাে , তার থেকে না যায় পালানাে , তার বিরুদ্ধে না চলে নালিশ , তার সম্বন্ধে না আছে বিচার । দেশসুদ্ধ লােক ভূতগ্রস্ত হয়ে চোখ বুজে চলে । দেশের তত্ত্বজ্ঞানীরা বলেন , এই চোখ বুজে চলাই হচ্ছে জগতের সব চেয়ে আদিম চলা । একেই বলে অদৃষ্টের চালে চলা । সৃষ্টির প্রথম চক্ষুহীন কীটাণুরা এই চলা চলত ; ঘাসের মধ্যে , গাছের মধ্যে , আজও এই চলার আভাস প্রচলিত । শুনে ভূতগ্রস্ত দেশ আপন আদিম আভিজাত্য অনুভব করে । তাতে অত্যন্ত আনন্দ পায় । ভূতের নায়েব ভুতুড়ে জেলখানার দারােগা । সেই জেলখানার দেয়াল চোখে দেখা যায় না । এইজন্যে ভেবে পাওয়া যায় না , সেটাকে ফুটো করে কী উপায়ে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব । এই জেলখানায় যে ঘানি নিরন্তর ঘােরাতে হয় তার থেকে এক ছটাক তেল বেরােয় না যা হাটে বিকোতে পারে , বেরােবার মধ্যে বেরিয়ে যায় মানুষের তেজ । সেই তেজ বেরিয়ে গেলে মানুষ ঠান্ডা । হয়ে যায় । তাতে করে ভূতের রাজত্বে আর কিছুই না থাক — অন্ন হােক , বস্ত্র হােক , স্বাস্থ্য হােক — শান্তি থাকে । কত - যে শান্তি তার একটা দৃষ্টান্ত এই যে , অন্য সব দেশে ভূতের বাড়াবাড়ি হলেই মানুষ অস্থির হয়ে ওঝার খোঁজ করে । এখানে সে চিন্তাই নেই । কেননা ওঝাকেই আগেভাগে ভূতে পেয়ে বসেছে ।
Next part coming soon.........

Post a Comment

0 Comments