বিষয় : সমাজভাষাবিজ্ঞান
সমাজ ভাষাবিজ্ঞান কাকে বলে ?
ভাষা কিভাবে সমাজে কাজ করে ও সমাজ কিভাবে ভাষার ওপর প্রভাব বিস্তার করে ভাষা বিজ্ঞানের যে শাখায় এইসব নিয়ে চর্চা করে তাকেই সমাজভাষাবিজ্ঞান বলে।
এক কথায় বলা যায় সমাজভাষাবিজ্ঞান হলো সমাজ ও ভাষার মধ্যে সংযোগ স্থাপন।
সমাজ ভাষাবিজ্ঞান এর আলোচ্য বিষয়
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ, বিভিন্ন জাতির মানুষ, এমনকি সমাজে নারী পুরুষ অনুযায়ী ভাষা ব্যবহারের ভিন্নতা দেখা যায়। পেশাগত কারণে ভাষার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায় । এইসব সমাজ ভাষাবিজ্ঞান এর আলোচ্য বিষয়।
সমাজ ভাষাবিজ্ঞানের ভাগ
সমাজ ভাষাবিজ্ঞানের মূলভাগ ৩ টি
(a) বর্ণনাত্মক সমাজভাষাবিজ্ঞান
(b) প্রয়োগমূলক সমাজভাষাবিজ্ঞান
(c) পরিবর্তমান সমাজভাষাবিজ্ঞান
(a)বর্ণনাত্মক সমাজভাষাবিজ্ঞান
ভাষার বৈচিত্রের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বর্ণনাত্মক সমাজভাষাবিজ্ঞান। বর্ণনাত্মক সমাজ ভাষাবিজ্ঞান এর প্রধান আলোচ্য বিষয় ভাষার বক্তা, ভাষার বিভিন্ন রূপ ভাষার বিভিন্ন কারণ আলোচনা করা।
একটি ভাষার বৈশিষ্ট্য বা চরিত্র নির্ভর করে বক্তা শ্রোতা উপলক্ষ্য উপর।
বক্তা (sender)
বক্তার সামাজিক পরিচয়, তাঁর সামাজিক অর্থনৈতিক অবস্থা ও মর্যাদা, পেশা , তিনি নারী না পুরুষ, তাঁর বয়সের পরিমাণ ,মানসিক স্বাস্থ্য এখানে বিচার করা হয়।
শ্রোতা (reciver)
বক্তার পাশাপাশি শ্রোতার সামাজিক-আর্থিক-সাংস্কৃতিক পরিচয় জানা বাঞ্ছনীয়। আমরা গুরুজনদের সাথে যেভাবে কথা বলা হয়, সমবয়সীদের সাথে বয়ঃকনিষ্ঠদের সাথে সেভাবে কথা বলা হয় না।
পরিবারের সদস্যদের সাথে যেভাবে কথা বলা হয় স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে সেভাবে কথা বলা হয় না অর্থাৎ সামাজিক প্রভাব বক্তা ও শ্রোতার ওপর পড়ে।
উপলক্ষ্য (setting)
পরিস্থিতি পরিপ্রেক্ষিত বা উপলক্ষ ভেদে মানুষের ভাষা পাল্টে যায়। সভা-সমিতির ভাষা বা বিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাষা এক নয়।
অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুযায়ী ভাষা প্রকাশিত হয় আইন-আদালত ও পাড়ায় আড্ডায় আমরা আলাদা আলাদা ভাষা ব্যবহার করি। উপভাষা অঞ্চলের মানুষ নিজের সাথে যে ভাষায় কথা বলে বিদ্যালয় বা চাকরিস্থলে সেই ভাষায় কথা বলে না সুতরাং কোথায় কথা বলা হচ্ছে এটি একটি বড় বিষয়।
রেজিস্টার (Register)
উপলক্ষ্য অনুযায়ী ভাষার রুপ বদল কে বলে রেজিস্টার
কোড (code)
কোনো বিশেষ উপভাষায় যে রীতি ব্যবহার করা হয় তার নাম কোড।
কোড বদল(code sweating)
পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই ব্যক্তির ভাষা পরিবর্ত হলে তাকে বলে কোড বদল।
(b)পরিবর্তমান সমাজভাষাবিজ্ঞান
সমাজ ভাষার উদ্ভব, বিবর্তন, বিস্তার ও সংকোচনের ধারা নিয়ে ভাষা বিজ্ঞানের যে শাখায় কাজ করে তার নাম পরিবর্তমান সমাজভাষাবিজ্ঞান।
যেমন কোনো একটি গোষ্ঠী বা কোনো একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কিত হয় তখন দেখা যায় যে তাদের ভাষা ব্যবহারে দুই গোষ্ঠীর ভাষায় রয়েছে, এরকম ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় দুটি ভাষায় সমান্তরালভাবে থেকে যায় অথবা দুটি ভাষাই হারিয়ে যায় যখন দুইটি ভাষা সমান্তরালভাবে ব্যবহার হয় তখন তাকে বলে দ্বিভাষিকতা।
(C)প্রয়োগমূলক সমাজ ভাষাবিজ্ঞান
ভাষাবিজ্ঞান এর আলোচ্য বিষয় হল মাতৃভাষা শেখানোর পদ্ধতি উদ্ভাবন, অনুবাদ নীতি, লিপি প্রণালীর উদ্ভাবন পরিমার্জনা, সংশোধন, বানান সংস্কার ভাষা পরিকল্পনার দিক থেকে রাষ্ট্রভাষা সংযোগের ভাষা ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

0 Comments