Header Ads Widget

বিশ্ব উষ্ণায়ন // বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা // বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে

বিশ্ব উষ্ণায়ন (global warming)

বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা

"যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল

 এ পৃথিবীকে এ শিশুর বাসযােগ্য করে যাব 

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্কীকার।” 

বিশ্ব উষ্ণায়ন // বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা // বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে
বিশ্ব উষ্ণায়ন // বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রবন্ধ রচনা // বিশ্ব উষ্ণায়ন কাকে বলে


          কিন্তু দুঃখের বিষয় এ অঙ্গীকার মানুষ আজ সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত। এ পৃথিবী আজ, শুধুমাত্র শিশুদের নয়, সম্পূর্ণ মানবসমাজের বাসের অযােগ্য হয়ে উঠেছে, বরং বলা যায় - সমগ্র জীবজগৎ আজ ভয়ঙ্কর ধ্বংসের সম্মুখীন। যে পরিবেশের অকৃপণ সহায়তা না পেলে মানুষ আজ প্রগতিস্বর্গে  আরােহণ করতে পারতাে না, বিজ্ঞানের নিরঙ্কুশ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আজ সেই পরিবেশের বিশুদ্ধতাকে নষ্ট করে এই পৃথিবীর  অধীশ্বর হতে চায়। কিন্তু তার সেই অতিযান্ত্রিক আগ্রাসন, পৃথিবীতে এক  প্রচণ্ড অবক্ষয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে, যাকে বিজ্ঞানীরা " বিশ্ব উষ্ণায়ন " নাম দিয়েছেন।

গত দু-তিন বছর ধরে পৃথিবীর পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষতিকর  পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

 আমাদের গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের কথা যদি বলতে হয়, তবে প্রথমে বলা ভালাে—প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায়  বঙ্গবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত । শীতের অসহ্য কামড় তাদের আর সহ্য করতে হয় না বললেই চলে। 

ক্যালেণ্ডার-পঞ্জিকায় বসন্তের সমাপন না হতেই প্রচণ্ড রৌদ্রদগ্ধ দিনের জ্বালা সহ্য করতে হয়। এখন বৃষ্টির জন্য শুধু বর্ষাকালের অপেক্ষায় থাকতে হয় না, বছরের যে কোনাে সময়ে নিম্নচাপের কারণে বঙ্গবাসী বর্ষণক্লান্ত হয়ে ওঠে। আবার এদিকে মার্চের শেষে পৌছেই বঙ্গবাসীর চাতকপাখির থেকেও খারাপ অবস্থা। শুধুমাত্র আমাদের পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতবর্ষ নয়, ইওরােপীয় দেশগুলিতেও যখন তখন ভূমিকম্প বা প্রবল বন্যা তছনছ করে দিচ্ছে জনবসতিগুলি। 

এখন প্রশ্ন হলাে—প্রকৃতির এই অতি বিমুখতা কেন? কেনই বা সে এত খামখেয়ালি?

 উষ্ণায়ন যদি দুই ডিগ্রির নীচে না থাকে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির ঘাের বিপদ হতে পারে—এই মর্মে পরিবেশ সংগঠন গ্রীনপিস বিশেষ সতর্কবাণী শুনিয়েছে। চেন্নাইয়ের আই. আই. টি—শিক্ষক সুধীর চেল্লা রাজনের অভিমতে-যদি গ্রীন হাউস গ্যাসের নির্গমন প্রতিরােধ করা না যায়, তবে বিশ্বের তাপমাত্রা চার থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার জলবায়ুর বিপুল পরিবর্তন সংঘটিত হবে। সমুদ্রজলতলের উচ্চতা বর্ধিত হয়ে লবণাক্ত সামুদ্রিক জলের প্রভাবে পানীয় জলের ঘাটতি দেখা দেবে আর খরার আবির্ভাব ঘটবে। রাজনের মতে, “এই বিধ্বংসী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে ভারতের এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক স্তরে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত। অমােঘ ধ্বংসের জন্য আমরা অপেক্ষা করতে পারি না।”

আবহবিজ্ঞানীরা এই খামখেয়ালী প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণ হিসাবে তীব্র পরিবেশ দূষণকেই দায়ী করেছেন। তাঁদের মতে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতবর্ষ নয়, সারা বিশ্বের তাপমাত্রা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সৌরজগতের এই গ্রহে ক্রমশ অশুভ গ্রীন হাউস গ্যাসের আনাগােনা বেড়ে চলেছে; বাড়িয়ে দিচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা। বিভিন্ন প্রকার মারণযুদ্ধে ব্যবহৃত পারমাণবিক অস্ত্র বায়ুমণ্ডলের দূষণকে পূর্ণতা দিচ্ছে।

 সেইসঙ্গে তুষারাবৃত পার্বত্য প্রদেশে অতিমাত্রায় অভিযাত্রী দলের যাতায়াত, তাদের শৈত্য যন্ত্রণা নিবারণে প্রজ্বলিত অগ্নিতে ওই সকল অণ্ডলের স্বাভাবিক শীতলতা নষ্ট হচ্ছে, গলছে বরফস্তুপ, এমনকি মেরুপ্রদেশে ইউরেনিয়ামের অন্বেষণে ও বিজয় অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা যে সকল প্রয়ােজনীয় সামগ্রী ব্যবহার করছেন, তা ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। এইভাবে ‘বিশ্ব উষ্ণায়ন ’ বা ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ এর দানব ময়াল সাপের মতাে একটু একটু করে পৃথিবীকে গ্রাস করছে।


এই বিশ্ব উয়ায়ন যদি এইভাবেই চলতে থাকে, তবে খুব দ্রুত গ্রীনল্যাণ্ড ও মেরুসাগরের বরফও অস্বাভাবিকভাবে গলতে শুরু করবে। 

 গ্রীনল্যাণ্ডে এমন কিছু হিমবাহ আছে যেগুলি কলকাতার গড়ের মাঠের থেকেও বিশাল এবং সেগুলি মিনিটের মধ্যে ১০ মিটার পর্যন্ত সরে যেতে পারে, যার ফলস্বরূপ অবশ্যম্ভাবীরূপে দেখা দেবে বড়মাপের ভূমিকম্প। বেড়ে যাবে সমুদ্রের জলস্তর। গবেষকদলের নেতৃত্বদানকারী জোনাথান ওভারপেক বলেছেন—এখন যে পরিমাণ গ্রীন হাউস গ্যাসের উপস্থিতি বাড়ছে, তাতে প্রতি শতাব্দীতে জলস্তর বৃদ্ধির পরিমাণ ১ মিটারেরও বেশি। বর্তমান অবস্থার থেকে প্রায় দ্বিগুণ মাত্রায় যদি পৃথিবী গরম হতে থাকে, তাহলে অতি দ্রুত আমরা বিপদ সীমায় ঢুকে পড়বাে এবং এই ঘটনার গতিপথ ফেরানাে সম্ভব নয়। তাপমাত্রার এই দ্রুত পরিবর্তনে হিমবাহই শুধু নয়, সমুদ্র তলবর্তী  বিস্তৃত বরফক্ষেত্ৰও গলতে শুরু করবে।

সুতরাং একথা খুব স্পষ্ট যে—“শেষের সেদিন ভয়ঙ্কর’, কারণ গবেষকদের মতে পরিবেশ গরম হওয়ার আশঙ্কা তাদের গবেষণার সাথে মিলে যাচ্ছে। আমরা হয়তাে খুব দ্রুত, মহাপ্রলয়ের দিকেই অগ্রসর হচ্ছি; ১৯৭২ ও ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ব-পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট ভাবনা-চিন্তা হয়েছে; ১৯৯২ সালের ৩ জুন থেকে ১৪ জুন রিও-ডি-জেনিরােতে ১৮০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানগণ বসুন্ধরা সম্মেলন’-এ অংশগ্রহণ করে সুস্থ জীবন ও পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলােচনা করেন; তবুও আমাদের সচেতনতা কোথায়? এখনও সাম্রাজ্যবাদী  শক্তিগুলির যান্ত্রিক আগ্রাসন দেখে বিশ্ববিধাতার কাছে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে -

"যাহারা তােমার বিষাইছে বায়ু, নিভাইছে তব আলাে-

তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ, তুমি কি বেসেছ ভালাে?"


বাংলাদেশের লেডারস-এর কার্যনির্বাহী আধিকারিক মােহন কুমার মণ্ডলের বক্তব্য এই জলবায়ু সংকট প্রতিরােধে অক্ষম হলে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশীকে : উদ্বাস্তু হতে হবে এবং মূলত ভারতকেই ঠাই দিতে হবে তাদের। ভারতে পাঁচটি উপকূলবর্তী শহর-কলকাতা,মুম্বাই, চেন্নাই, কোচি ও গােয়ার জন্যও একটি 'ব্লু অ্যালার্ট’  প্রচার করবে গ্রীনপিস। ওই প্রচারের মাধ্যমে এই পাঁচটি শহরের অধিবাসীদের জ্ঞাত করানাে হবে যে, সরকার এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাদের অচিরেই কি দুর্বিষহ দুর্গতির সম্মুখীন হতে হবে।


এই প্রবন্ধ রচনাটি সব ক্লাসের জন্য উপযুক্ত। 10 নাম্বার কোশ্চেন এর জন্য সেরা। তবে ছোট ক্লাস দের যদি 10 নাম্বারে কম আসে তাহলে দু-একটা পয়েন্ট বাদ দিয়ে এটা ছোট করে নিতে পারেন। তবে 10 নম্বরের জন্য পুরোটাই লিখতে হবে। 

best of luck all my friends


Post a Comment

0 Comments