প্রশ্ন.১) "এইতো সাজে তোমারে, ক্ষত্রমনি তুমি,"-- বক্তার এই মন্তব্য কী ছিল?
মধুসূদন দত্ত রচিত 'নীলধ্বজের প্রতি জনা’ পত্রকাব্যের প্রশ্নোপ্ত মন্তব্যটি মাহেশ্বরী পুরীর রাজমহিষী জনা তার স্বামী নীলধবজের উদ্দেশে করেছিলেন । পার্থের দ্বারা পুত্র প্রবীর নিহত হওয়ার পরে শােকে কাতর রাজমহিষী জনা প্রথমে রাজতােরণে রণবাদ্যের আওয়াজ , হ্রেষাধবনি ও হাতির গর্জন শুনতে পান এবং আকাশে রাজপতাকাও উড়তে দেখেন । এ ছাড়া রণমত্ত রাজসৈন্যদের হুংকারও তিনি শুনেছিলেন । এসব দেখেশুনে জনা কল্পনা করেছিলেন।একমাত্র পুত্র প্রবীরের মৃত্যুর প্রতিশােধ গ্রহণের জন্য এ হয়তাে রাজার যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি । জনার এই কল্পনা যে যথার্থ ছিল না , তা বােঝা যায় কবিতার পরবর্তী অংশেই । জনা অতি শীঘ্রই বুঝতে পারেন রাজসভায় নর্তকীরা নৃত্য পরিবেশনে রত , গায়করা ব্যস্ত সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বিশেষ অতিথির মনােরঞ্জনের জন্য । সভামধ্যে তাই ‘ উথলিছে বীণাধবনি ’ | জনাবুঝতে পারেন , এসবই পুত্রের হত্যাকারী পার্থকে স্বাগত জানানাের আয়ােজন । পার্থের সঙ্গে নীলধবজের সখ্যকে জনা কোনােভাবেই মানতে পারেন না এবং একে নিয়তির পরিহাসে রাজার অজ্ঞানতার প্রকাশ বলেই তাই মন্তব্য করেন । তিনি তাই প্রশ্ন তুলেছেন , “ ক্ষত্রিয়ধর্ম এই কি , নৃমণি ? ” দেশ - দেশান্তরে নীলধবজের এই আচরণ কীভাবে গৃহীত হবে।
প্রশ্ন.(২) “ ভুলিব এ জ্বালা , // এ বিষম জ্বালা , দেব , ভুলিব সত্বরে। ” বক্তা কে ? বক্তা এখানে কোন্ জ্বালা ভুলতে । চেয়েছেন ? শেষপর্যন্ত কীভাবে এই জ্বালা থেকে তিনি মুক্তি খুঁজেছেন ? ১ + ১ + ৩
উত্তর:
মধুসূদন দত্তের ‘ নীলধ্বজের প্রতি জনা ’ পত্ৰকবিতা থেকে গৃহীত প্রশ্নোস্তৃত অংশের বক্তা মাহেশ্বরী পুরীর রাজমহিষী জনা | রাজমহিষী জনা পুত্রশােকের জ্বালা ভুলতে চেয়েছেন । জনা আশা করেছিলেন , তাঁর স্বামী রাজা নীলধ্বজ পুত্র প্রবীরের হত্যার প্রতিশােধ গ্রহণের জন্য পার্থের বিরুদ্ধে অতি অবশ্যই যুদ্ধযাত্রা করবেন । রাজতােরণে রণবাদ্যের শব্দ , হাতি এবং ঘােড়ার চিৎকার শুনে , আকাশে রাজপতাকা উড়তে দেখে আর রাজসৈন্যদের রণমত্ত দুংকারে জনা প্রাথমিকভাবে অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে , রাজা নীলধ্বজ নিশ্চয় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন । পার্থের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই শােকে আকুল জনা পুত্র প্রবীরের অকালমৃত্যুর জ্বালা ভুলতে চেয়েছেন । নীলধবজের কাছে জনার এই প্রত্যাশা একেবারেই পূরণ হয়নি । নীলধ্বজ পার্থকে রাজসভায় আহ্বান ও বন্দনা করেন , মিষ্ট কথাবার্তার মাধ্যমে তাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন । এরপর পার্থের মনােরঞ্জনের জন্য রাজসভায় বসানাে হয় নৃত্য ও গীতের আসর | এইসব ঘটনাপ্রবাহ জনকে আহত এবং ক্ষুব্ধ করে |
ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি নারী হিসেবে নিজের অসহায়তার কথাও জনা বুঝতে পারেন । নিরুপায় জনা সব কিছুকেই নিয়তির পরিহাস বলে মনে করেন এবং স্বামী নীলধ্বজের প্রতি তীব্র অভিমানে আত্মবিসর্জনের মধ্যেই মুক্তির সন্ধান করেন— “ চলিল অভাগা জনা পুত্রের উদ্দেশে ! ” ক্ষত্রিয় বংশমর্যাদা রক্ষা এবং মৃতপুত্রের প্রতি ভালােবাসায় জনা জাহবীর জলে । আত্মবিসর্জনের মাধ্যমে হৃদয়যন্ত্রণা থেকে মুক্তি খুঁজেছেন ।
0 Comments