Header Ads Widget

রাজা রামমোহন রায় এর জীবনী // রাজা রামমোহন রায় এর অবদান

 রাজা রামমোহন রায় এর জীবনী 

রাজা রামমোহন রায় এর জীবনী ।। রাজা রামমোহন রায় এর অবদান
রাজা রামমোহন রায় এর জীবনী // রাজা রামমোহন রায় এর অবদান



     ভারতবর্ষ যখন অশিক্ষা ও কুসংস্কারের অন্ধকারে আচ্ছন্ন তখনই ভারতের আকাশে যে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটেছিল , তিনিই হলেন রাজা রামমোহন রায় । তাঁর আবির্ভাব ভারতীয় সমাজকে নতুন পথ দেখিয়েছিল । নতুন পথের দিশারি মানব প্রেমিক রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৭৭২ ( মতান্তরে ১৭৭৪ ) খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার অন্তর্গত খানাকুলে কৃষ্ণনগরের সন্নিহিত রাধানগর গ্রামে , এক সম্পন্ন বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারে । তাঁর পিতার নাম ছিল রামকান্ত রায় , মাতার নাম তারিণী দেবী । 

রাজা রামমোহন রায়ের বাণী

রামমোহন রায় বিশ্বাস করতেন যে , জাতিকে অজ্ঞতা ও জড়তা থেকে মুক্ত করতে পারে একমাত্র পাশ্চাত্য শিক্ষা ও যুক্তিবাদ । তাই তিনি প্রাচ্যের শ্রেষ্ঠ ও শাশ্বত চিন্তাধারার সঙ্গে পাশ্চাত্যের শ্রেষ্ঠ ভাবধারার সমন্বয় ঘটিয়ে নবভারত গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন । 

রবীন্দ্রনাথের মতে ,

“ Rammohan was the only person in his time , in the whole world of man to realise completely the significance of the Modern Age . " 

 ( রবীন্দ্রনাথের জীবনী পড়ুন: https://qroyal884.blogspot.com/2022/02/rabindranath-tagore-biography.html )

( রামমোহন হলেন সমকালীন বিশ্বের একমাত্র ব্যক্তি যিনি আধুনিক যুগের গুরুত্ব অনুভব করেছিলেন ) । রাজা রামমোহন রায়      




রামমোহন রায় এর সমাজ সংস্কার


রামমোহন রায়ের সমাজসংস্কারের অন্যতম প্রয়াসগুলি হল :

 

রাজা রামমোহন রায় ও সতীদাহ প্রথা

( ১ ) সতীদাহ প্রথার অবসান :

তৎকালীন হিন্দু সমাজে কুসংস্কারগুলির মধ্যে সতীদাহ প্রথা ছিল মর্মান্তিক ও লজ্জাজনক । রামমোহন রায় এই অমানবিক ও বর্বরোচিত সতীদাহ প্রথা প্রতিরোধের জন্য সমগ্র দেশ জুড়ে2.আন্দোলন গড়ে তোলেন । ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁরই প্রচেষ্টায় লর্ড বেন্টিঙ্কের আইনের মাধ্যমে এই অমানবিক , বর্বরোচিত প্রথা বন্ধ করে দেন । 

(২)বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ 

রামমোহন রায় বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন । বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে দেশবাসীকে বুঝিয়েছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে তিনি সমাজে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন । 

( ৩ ) সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার : সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে রামমোহন রায়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ আন্দোলন হল সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকার । সমাজে সেই সময় সম্পত্তিতে পরিবারে মেয়েদের কোনো অধিকার ছিল না , একমাত্র ছেলেদের অধিকার ছিল । এই বিষয়টির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন এবং সম্পত্তিতে মেয়েদের সমান অধিকারের আইন তৈরি করার সামগ্রিক আন্দোলন গড়ে তোলেন । এর মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল নারীকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভে সহায়তা করা ।

 ( ৪ ) সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দাবিতে সংগ্রামঃ 

ব্রিটিশ সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে নেওয়ার প্রতিবাদে ১৮২৩ সালে সরকারি অর্ডিনান্সের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের পরে প্রিভি কাউন্সিল - এ রামমোহন দরবার করেন । শুধু তা - ই নয় , এর প্রতিবাদ স্বরূপ ' মিরাৎ - উল - আখবর ’ নামক পত্রিকাটিকে বন্ধ করে দিয়েছিলেন । সেই সময় ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে অনেকখানি প্রশস্ত করে দিয়েছিল ।

 ( ৫ ) সরকারি চাকুরিতে বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ : 

সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে ভারতবাসীকে নানা ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের মোকাবিলা করতে হত । রামমোহন এই ইংরেজ সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন । তিনি পার্লামেন্টের কমিটির সামনে যে বক্তব্য রেখেছিলেন , তা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য— এদেশের শিক্ষিত উন্নত বুদ্ধিসম্পন্ন ভারতীয় যেন উচ্চ পদ লাভ করতে পারে ।

 ( ৬ )ব্রাহ্ণসমাজ প্রতিষ্ঠাঃ

 রামমোহন সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন । তিনি ধর্মের নামে কুসংস্কারকে কোনোদিনই মেনে নেননি । হিন্দু ধর্মের প্রতি যে ত্রুটিগুলি ছিল , সেখানে তিনি পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন । তিনি এমন একটি ধর্মের প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন , যেখানে মানুষ থাকবে সবার ওপরে । যেখানে ধনী - দরিদ্র , নারী - পুরুষের কোনো ভেদাভেদ থাকবে না । প্রতিটি মানুষ স্বাধীন চিন্তা করতে পারবে । এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন ব্রাহ্ণসমাজ । 

( ৭ ) ধর্মীয় সংস্কারে আত্মীয়সভা গঠন : 

রামমোহন ছিলেন হিন্দু ধর্মের মধ্যে কুসংস্কার , অন্ধবিশ্বাস ও পৌত্তলিকতার ঘোর বিরোধী । তিনি একেশ্বরবাদী ছিলেন । তিনি ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে আত্মীয়সভা নামে একটি সমিতি গঠন করেন , যার উদ্দেশ্য ছিল আধ্যাত্মিক বিষয়ের ওপর গভীর আলোচনা করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বাস্তবতা ও সত্যতা বিচার ও বিশ্লেষণ করা । 

( ৮ ) ভারতীয় স্বার্থরক্ষার্থে ইংল্যান্ডে আন্দোলন :

 ১৮৩১-১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নতুন সনদ গ্রহণ উপলক্ষ্যে ভারতের শাসনপ্রণালীর বিষয় অনুসন্ধান করার জন্য পার্লামেন্ট থেকে একটা কমিটি নিযুক্ত হয় । এদেশীয় ইউরোপীয় বণিক , রাজকর্মচারী প্রভৃতি ওই কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেন । রামমোহন রায়ও কমিটির কাছে গভর্নমেন্টের রাজস্ববিভাগ , বিচারবিভাগ ও সাধারণ জনগণের জীবন অবস্থা নিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন । তাঁর এই প্রস্তাবগুলি ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল । এই সনদের বিরুদ্ধে রামমোহন রায় ইংল্যান্ডে আন্দোলন করেছিলেন । উনিশ শতকের কুসংস্কারাচ্ছন্ন হিন্দু সমাজে সাংস্কৃতিক নবজাগরণ , সামাজিক উন্নয়ন ও শিক্ষার উদারীকরণের ক্ষেত্রে রামমোহন ছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অগ্রদূত স্বরূপ । রামমোহনের হাত ধরেই ভারতবর্ষ আধুনিক যুগে পা রেখেছিল । 

রবীন্দ্রনাথ রামমোহন সম্পর্কে তাঁর এক ইংরেজি প্রবন্ধে লিখেছিলেন , “ Rammohan Roy inaugurated the Modern age in India " . ( রামমোহন ভারতে আধুনিক যুগের সূচনা ঘটিয়েছিলেন । ) 


রাজা রামমোহন রায়ের শিক্ষাচিন্তা:

 রাজা রামমোহন যেমন সমাজসংস্কারক তেমনি তিনি শিক্ষাসংস্কারক । শিক্ষার প্রসারে যেমন তিনি গণ - আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তেমনি পাশ্চাত্য দর্শন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে এদেশের অশিক্ষার অন্ধকারের অবসান ঘটানোর হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন ; তাই রাজা রামমোহন রায়কে ভারতীয় শিক্ষা প্রসারের পথিকৃৎ বলা হয় । 

( ১ ) শিক্ষার লক্ষ্য : রামমোহনের মতে , শিক্ষার লক্ষ্য হবে ব্যক্তি ও সমাজকল্যাণ । শিক্ষার মাধ্যমে তিনি শিশুর মধ্যে পরিশীলিত ও যুক্তিবাদী মন গঠনের কথা বলেছেন । শিক্ষার মাধ্যমে তিনি মানুষের মনে পরিপূর্ণ বিকাশ ও উন্নতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন । 


( ২ ) প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সমন্বয় : ভারতীয় শিক্ষার উন্নয়নের জন্য রাজা রামমোহন রায় প্রাচ্য ও পাশ্চাতা শিক্ষার সমন্বয়কেই একমাত্র মাধ্যম হিসাবে গুরুত্ব দিয়েছেন । তাঁর মতে ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য আছে । তার মূল্য যেমন অপরিসীম , তেমনি ভারতীয় শিক্ষার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব আছে , তার পরিবর্তনও হওয়া বাৰ্নীয় । ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ প্রয়োজন তেমনি পাশ্চাত্য বিজ্ঞানকে গ্রহণ করাও প্রয়োজন । তাই তিনি ভারতীয় শিক্ষার সঠিক উন্নয়নের জন্য প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন । 


(৩ ) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রসার : রাজা রামমোহন রায় ভারতের মাটিতে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের বীজ বপন করেছিলেন । তিনি বুঝেছিলেন যে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য অনেক উন্নতমানের , যার চর্চা করলে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে শিশুর যেমন পরিচয় ঘটে , তেমনি নতুন ধ্যানধারণা জেগে উঠতে পারে । এই জাগরণ ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিত্বের সর্বাঙ্গীণ বিকাশে সহায়তা করে এবং সমাজকে উন্নত করে তোলে । এইভাবে রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রসার ভারতে ঘটতে শুরু করেছিল । 

(8 ) বাংলা গদ্যসাহিত্যের উন্নতি : বাংলা গদ্যের যে সংস্কৃত নির্ভরতা ছিল তার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রামমোহন রায়ের অবদানও যথেষ্ট কৃতিত্বের দাবি রাখে । তাঁর বাংলা ভাষায় ধর্ম সম্বন্ধে পুস্তক , ব্যাকরণ , শাস্ত্রের বিচার ও বিবাদমূলক রচনা সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা গদ্যের স্থান বর্ধিত করেছিলেন । ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি তাঁর প্রথম গদ্যগ্রন্থ ' বেদান্ত গ্রন্থ ’ প্রকাশ করেন । ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ ‘ গৌড়ীয় ব্যাকরণ ' প্রকাশ করেন । 

( ) পুস্তক রচনা ও অনুবাদ : রামমোহন রায় ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে থেকে ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে প্রায় তিরিশখানি পুস্তক রচনা করেছিলেন । তিনি প্রধানত সমাজ ও ধর্ম সংস্কারের উদ্দেশ্যেই অনেক সংস্কৃত গ্রন্থ অনুবাদ , তর্ক ও বিচারমূলক গ্রন্থ রচনা করেন । প্রাচীন গ্রন্থের অনুবাদের মধ্যে বেদান্ত গ্রন্থ ( ১৮১৫ খ্রিঃ ) বেদান্তসার ( ১৮১৬ খ্রিঃ ) প্রভৃতি । এ ছাড়াও তিনি গৌড়ীয় ব্যাকরণ ( ১৮৩০ খ্রিঃ ) ও ব্রাহ্ণসঙ্গীত ( ১৮২৯ খ্রিঃ ) রচনা করেছিলেন । 

( ৬ ) সংবাদপত্র প্রকাশ ও স্বাধীনতা রক্ষা : রামমোহন রায়ের সম্পাদনায় যে সমস্ত সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় , সেগুলি হল – ' সম্বাদ কৌমুদি ' ( ১৮২১ খ্রিঃ ) , ' মিরাৎ - উল আখবর ' ( ১৮২২ খ্রিঃ ) এবং ' The Brahmanical Magazine ' ( ১৮২১ খ্রিঃ ) । এই সমস্ত পত্র - পত্রিকাগুলিতে তৎকালীন সমাজ প্রকাশ করা হত । এ ছাড়া জনসাধারণের কল্যাণসাধন ও জনমত গঠনের ক্ষেত্রেও পত্রপত্রিকাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ করেন । 


( ৭ ) ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার : রামমোহন রায় পাশ্চাত্য শিক্ষাকে আহ্বান জানিয়েছিলেন সত্য কিন্তু ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে অবহেলা করেননি । তিনি ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে এদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন ঘটাতে চেয়েছিলেন ।

 

( ৮ ) স্কুল ও হিন্দু কলেজ স্থাপন : রামমোহন ইংরেজি শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে ইংরেজি বিদ্যালয় স্থাপন করেন । ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে ‘ ইঙ্গ - বৈদিক স্কুল ’ নামে একটি আধুনিক শিক্ষার প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন । হিন্দু কলেজ স্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য । ( ৯ ) নারীশিক্ষা বিস্তার : নারীশিক্ষা বিস্তারে রামমোহন রায় যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন । তিনি হিন্দুশাস্ত্রের বিভিন্ন অংশকে বিশ্লেষণ করে সমাজকে জাগিয়ে তুলেছিলেন । নারীশিক্ষাকে সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন এবং অন্যান্য সকল ব্যক্তিদেরও নারীশিক্ষার কেন্দ্র স্থাপনে অনুপ্রাণিত করেছিলেন ভারতের আধুনিক শিক্ষার বিকাশে বিশিষ্ট ভারতীয় শিক্ষাবিদদের ভূমিকা  

( ১০ ) বিভিন্ন বিদেশি মিশনকে বিদ্যালয় স্থাপনে সাহায্য : রামমোহন রায় এদেশে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের জন্য শ্রীরামপুর ত্রয়ী , রেভারেন্ড অ্যাডাম , স্কটিশ মিশনকে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সাহায্য করেছেন । আলেকজান্ডার ডাফ ( Alexander Duff ) কলকাতায় এসে ভারতীয়দের জন্য পাশ্চাত্য জ্ঞান - বিজ্ঞান ও ভাষার প্রসারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন । 

( ১১ ) গণশিক্ষার বিস্তার ও উন্নয়ন: ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষকে কুসংস্কার ও অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের পথে , সত্যের পথে আনার জন্য এবং সামাজিক পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য গণশিক্ষার বিস্তার ও উন্নয়ন প্রয়োজন । রামমোহন তা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করেন ।


 উনিশ শতকে সমন্বয়ধর্মী ও প্রগতিশীল চিন্তার মাধ্যমে রামমোহন রায় বাংলায় শিক্ষার ক্ষেত্রে নবজাগরণ ঘটাতে প্রয়াসী হয়েছিলেন । প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার মিলন ঘটিয়ে জনশিক্ষার প্রসার , বিদ্যালয় স্থাপন , পুস্তক প্রণয়ন ও পত্রিকা প্রকাশনের মাধ্যমে একদিকে তিনি যেমন একজন স্মরণীয় শিক্ষাসংস্কারক , অপরদিকে তেমন উদার মানসিকতা , যুক্তিবাদী মননশীলতায় তিনি নিজেকে একজন শ্রেষ্ঠ ধর্ম সংস্কারকরূপেও প্রমাণ করেছিলেন । 

রামমোহনের জীবনীকার সোফিয়া - ডি - কোলেট সংস্কারক রামমোহনের মূল্যায়নে লিখেছিলেন " Rammohan stands in History as a living bridge over which India marches from her unmeasured past to her incalculable future . ” ( ইতিহাসে রামমোহন হলেন এক জীবন্ত সেতু , যার ওপর দিয়ে ভারতবর্ষ তার বিশাল অতীত থেকে অসীম ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হয়েছে ’ ) । 


Post a Comment

0 Comments