1. পাল ও সেন যুগের বাংলায় সংগীতের চর্চা সম্পর্কে যা জান লেখো ।
![]() |
| পাল ও সেন যুগের বাংলা সংগীতের চর্চা সম্পর্কে যা জানো লেখো || টপ্পা ও ঠুংরি গান সম্পর্কে যা জানো লেখো |
রাজা শশাঙ্কের পরবর্তীকালে পাল ও সেনযুগে বাংলা সংগীতের ও বাঙালির সঙ্গীতসাধনার সূত্রপাত ঘটে । পাল যুগে ( অষ্টম শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে নবম শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত ) বাংলা ভাষার জন্মের পর পরই বাংলা সঙ্গীত তার শুভযাত্রার শুভারম্ভ করে । চর্যাপদ রচনার মধ্য দিয়ে বাঙালি তার সংগীত রচনার নিদর্শন রেখেছে । চর্যাপদের শিরোনামে বিভিন্ন রাগ - রাগিনীর নাম রয়েছে অর্থাৎ কোন্ পদ কোন্ রাগে গীত হবে তার নির্দেশ রয়েছে প্রতি পদের শীর্ষে ।
সেগুলির অধিকাংশ লোকায়ত রাগরাগিনী — গুর্জরী , কামোদ , পটমঞ্জরী , বঙ্গালী , বরাড়ী ইত্যাদি । পালরাজত্বে রামপালের সময়ে পশ্চিম ভারতের বহু রাগরাগিনী বাংলা সংগীতে এসে প্রবেশ করে । এগুলির মধ্যে মালব , গুর্জরী , খাম্বাজ , গান্ধার ইত্যাদি । একাদশ শতাব্দীর শেষে সঙ্গীতের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করে রামাবতী নগর , রামপাল এই নগরীর পত্তন করেন । বেণু, বীণা , মুরজ সহযোগে সংগীতের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে উঠতো এই নগর । সেনবংশের আমলে বিশেষত বল্লালসেনের রাজত্বে উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রচলন শুরু হয় । লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বে বুঢ় মিশ্ররাজ পটমঞ্জরী রাগ আলাপ করে জয়দেবের সঙ্গে সাঙ্গীতিক প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ।
2. টপ্পা ঠুংরি গান সম্পর্কে যা জানো লেখো।
রামনিধি গুপ্ত ( জন্ম ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দ ) : ত্রিবেণীতে জন্মগ্রহণ করলেও হিন্দুস্থানী ওস্তাদের কাছে তাঁর সংগীত শিক্ষা ছাপরা জেলায় । সেখানে তিনি টপ্পা গান শিখে বাংলা ভাষায় বহু টপ্পা গান রচনা করেন । তাঁর রচিত সংগীতগুলি ‘ নিধুবাবুর টপ্পা ' নামে পরিচিত । বাণীর সঙ্গে সুরের প্রচ্ছন্ন সমন্বয় তাঁর সংগীতের বৈশিষ্ট্য।
বাংলা সংগীতের অন্যতম শাখা ঠুংরি গান । টপ্পার রাগিণীতে গীত , আটা কাওয়ালী এবং ঠুংরি তালে পরিবেশিত হয় যে গান তাকেই বলে ঠুংরি । প্রেম , বিরহ বা শৃঙ্গার ঠুংরিতে প্রাধান্য পায় । ঠুংরি গান বাংলায় রচনা করেন অতুলপ্রসাদ সেন । নজরুল ইসলাম ঠুংরি চালের গান রচনা করেছেন । জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ , তারাপদ চক্রবর্তী , ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায় , সুধীরলাল চক্রবর্তীর কণ্ঠে বহু ঠুংরি গান জনপ্রিয় হয়েছে । ওয়াজেদ আলী শাহ এবং গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী বাংলায় ঠুংরি গানের প্রচলন নিয়ে পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেছেন।

0 Comments