Header Ads Widget

চিত্রকলার জগতে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃতিত্ব আলোচনা করচিত্রকলার জগতে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃতিত্ব আলোচনা কর

 চিত্রকলার জগতে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃতিত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো।

চিত্রকলার জগতে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃতিত্ব আলোচনা কর
চিত্রকলার জগতে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৃতিত্ব আলোচনা কর


অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১-১৯৫১ খ্রিঃ): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয় অবনীন্দ্রনাথ কুড়ি বছর বয়সে ক্যালকাটা স্কুল অফ আর্টে ভর্তি হন। সেখানে তিনি জল রং, তেল রং, ইউরোপীয় চিত্রকলার সঙ্গে পরিচিত হন। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ‘সাধনা’ পত্রিকায় তাঁর বহু ছবি প্রকাশ পায়। ‘চিত্রাঙ্গদা’ সহ রবীন্দ্রনাথের বহু সাহিত্য সৃষ্টিতে তাঁর অলংকরণ রয়েছে। মোগলযুগের চিত্রকলার উপর ভিত্তি করে তিনি বেশ কিছু ছবি এঁকেছেন। অবনীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন পাশ্চাত্য চিত্রকলা বড়ো বেশি বস্তুনিষ্ঠ, তাই তিনি ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রক্ষা করে প্রাণধর্মী আত্মনিষ্ঠ চিত্রাঙ্কনের ওপর বিশেষ জোর দিলেন। ভারতের জাতীয় সংস্কৃতিকে চিত্রকলার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতে তিনি তৎপর হলেন। চিনা এবং জাপানি চিত্রকলার প্রভাবও তাঁর উপরে পড়েছে। লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব আর্টের সঙ্গে যুক্ত উইলিয়ম রদেনস্টাইনের সঙ্গে অবনীন্দ্রনাথের নিবিড় সংযোগ ছিল। 


কৃষ্ণলীলা সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি তিনি ভারতীয় রীতিতে এঁকেছেন। জাপানি চিত্রকলার প্রভাবে সৃষ্টি করেন ‘ওমর খৈয়াম’ (১৯৩০ খ্রিঃ) চিত্রাবলি। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মগুলি হলো—‘সাজাহান’, ‘বুদ্ধ ও সুজাতা’ (১৯০১ খ্রিঃ), ‘চতুর্ভুজা ভারতমাতা’ (১৯০৫ খ্রিঃ), ‘কচদেবযানী’ (১৯০৬ খ্রিঃ), ‘শেষযাত্রা’ (১৯১৪ খ্রিঃ), ‘ঋতুসংহার’, ‘বজ্রমুকুট’, ‘প্রত্যাবর্তন’ ইত্যাদি। ভারতীয় হিসেবে প্রথম তনি ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা আর্ট স্কুলের সহকারী অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে তাঁর চিত্রপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর শিল্পসংক্রান্ত গ্রন্থগুলি হলো—‘ভারত শিল্পে মূর্তি’, ‘শিল্পায়ন’, ‘চিত্রাক্ষর’, ‘ভারতশিল্প’, ‘সহজ চিত্রশিক্ষা’, ‘বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী' ইত্যাদি। শেষ জীবনে ‘কাটুম-কুটুম’ নামক আকারনিষ্ঠ বিমূর্ত রূপসৃষ্টিমূলক চিত্রকলা তিনি উদ্ভাবন করেন।

১৯০২ খ্রিস্টাব্দ চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কলকাতায় গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলের অধ্যক্ষ ই. বি. হ্যাভেল ওই বছরে ইংল্যান্ডের ‘দ্য স্টুডিও’ পত্রিকায় অবনীন্দ্রনাথের চিত্রকলার উপর নিবন্ধ রচনা করেন আর ওই বছরেই ভগিনী নিবেদিতার মাধ্যমে পরিচিত হন জাপানের শিল্পী কাকুজো ওকাকুরার সঙ্গে। দেশীয় তথা এশীয় চিত্রশিল্পের নিজস্ব ঘরানা সংরক্ষণের দাবিতে, অবনীন্দ্রনাথ ও গগনেন্দ্রনাথের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ইন্ডিয়ান সোসাইটি অব ওরিয়েন্টাল আর্ট। ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশপ্রেম ও স্বাদেশিকতাকে তুলে ধরতে অবনীন্দ্রনাথ সচেষ্ট ছিলেন। 


১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশি আন্দোলনের সময়ে সৃষ্ট তাঁর ‘ভারতমাতা’ ছবিটি তাঁর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভারতীয় চিত্রকলার ইতিহাসে অবনীন্দ্রনাথের চিত্রকলা ‘নব্যবঙ্গীয় শৈলী' নামে পরিচিতি পেয়েছে। রঙের বিচিত্র ব্যবহার এবং আঙ্গিকের নিরন্তর অভিনবত্ব অবনীন্দ্রনাথের চিত্রকলায় নূতনত্বের সংযোজন করেছে। এ প্রসঙ্গে তাঁর ‘ফাল্গুনী’ সিরিজ, ‘চণ্ডীমঙ্গল’ ও ‘কৃষ্ণমঙ্গল’ সিরিজের ছবিগুলির কথা বলা যায়। 


১৯০৬ থেকে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আর্ট স্কুলের কার্যনির্বাহী অধ্যক্ষ হিসেবে অবনীন্দ্রনাথ নব্যবঙ্গীয় শৈলীর প্রসার ও প্রচার করেছেন। মোগলযুগের চিত্রশৈলীর সমন্বয়ে আপন ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলেছেন, ‘তাজের স্বপ্ন’, ‘অন্তিমশয্যায় শাহজাহান’, ‘যাত্রার শেষ’ ছবিগুলিতে। অবনীন্দ্রনাথ শুধুই চিত্রকর নন, শিল্পগুরুও বটে। তাঁর সুযোগ্য ছাত্র-শিষ্যেরাবাঙালি হলেন - নন্দলাল বসু, অসিতকুমার হালদার, সমরেন্দ্রনাথ গুপ্ত, প্রমোদকুমার চট্টোপাধ্যায়, দেবীপ্রসাদ রায়চৌধুরী, মুকুল দে, ক্ষিতীন্দ্রনাথ মজুমদার প্রমুখ।


Post a Comment

0 Comments