Header Ads Widget

চিত্রকলায় যামিনী রায় অবদান এবং চিত্রকলায় বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় অবদান আলোচনা করো।

চিত্রকলায় যামিনী রায় অবদান 

চিত্রকলায় যামিনী রায় অবদান
চিত্রকলায় যামিনী রায় অবদান 


 যামিনী রায় (১৮৮৭-১৯৭২ খ্রিঃ) : আধুনিক চিত্রকলার উদ্ভাবনে অবনীন্দ্রনাথের সুযোগ্য ছাত্র যামিনী রায়ের বিশেষ অবদান রয়েছে। বেঙ্গল স্কুল অব আর্ট এবং পাশ্চাত্য চিত্রভাবনার সমন্বয়ে তাঁর চিত্রকলা ভাবনা বিকশিত হয়েছে। 

যামিনী রায়ের চিত্রশিল্পী সত্তার তিন ভাবনা সর্বত্র প্রসারিত—বিশ্বের দরবারে ভারতীয় শিল্পকে মর্যাদার আসনে বসানো—তার আত্মপরিচয়ের নতুন দিশা দেখানো, সাধারণ মানুষের কাছে চিত্রের ভাষাকে বোধগম্যতা দেওয়া আর অতিসাধারণ মানুষের সারল্য তাদের জীবনযাত্রাকে পরিস্ফুট করা। কালীঘাটের পটশিল্পকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অপরিসীম। মূলত বাংলার চিরাচরিত চিত্রশিল্পের ধারাকেই তিনি অনুসরণ করতে চেয়েছেন।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য চিত্রগুলি হলো—‘বৈষুব’, ‘কৃষ্ণ’ এবং ‘বলরাম’, ‘নৌকায় গোপীসহ কৃষ্ণ’, ‘রাবণ’, ‘সীতা এবং জটায়ু’, ‘মাতা এবং শিশু’ ইত্যাদি। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে পরাধীন ভারতবর্ষে তিনি ভাইসরয়ের স্বর্ণপদক পান, ১৯৫৫ তে ভূষিত হন।

‘পদ্মভূষণে’। ১৯৫৫তে তিনি ললিতকলা আকাদেমি-র প্রথম ফেলো হন। 

 চিত্রকলায় বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় অবদান

চিত্রকলায় বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়  অবদান
চিত্রকলায় বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়  অবদান  


 বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায় (১৯০৪-১৯৮০ খ্রিঃ) : চিত্রশিল্পী এবং প্রাচীরগাত্রে ভাস্কর্য নির্মাণের ক্ষেত্রে তিনি আধুনিক মনস্কতার পরিচয় দিয়েছেন। দেয়ালের গায়ে স্থাপত্যের মাধ্যমে শিল্পিত বহিঃপ্রকাশের নতুন মাধ্যম তিনি আবিষ্কার করেছেন। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনের কলাভবনের ছাত্র হিসেবে তিনি যোগ দেন। সেখানে শিক্ষক হিসেবে পান নন্দলাল বসুকে, তাঁর অন্যতম সহ শিক্ষার্থী ছিলেন রামকিঙ্কর বেইজ। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে বিনোদবিহারী কলাভবনের শিক্ষক পদে যোগ দেন। 

১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলাভবন পরিত্যাগ করে তিনি কাঠমাণ্ডুর মিউজিয়ামের কিউরেটর পদে আসীন হন। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় শান্তিনিকেতনে ফিরে এসে তিনি কলাভবনের অধ্যক্ষ হন। চিন এবং জাপান দেশের ক্যালিগ্রাফির প্রভাব তাঁর চিত্রে দেখা যায়। 

বাল্য বয়স থেকে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকলেও চোখে অপারেশনের পর ১৯৫৬ সালে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান, ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে বিনোদবিহারীর অন্যতম ছাত্র সত্যজিৎ রায় তাঁর ওপর তথ্য চিত্র নির্মাণ করেন—''The Inner Eye"। মোগল ও রাজপুত ঘরানার চিত্রকলার প্রভাব তাঁর চিত্ররচনায় পড়েছে। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে পদ্মবিভূষণ, ১৯৭৭ এ বিশ্বভারতী কর্তৃক দেশিকোত্তম এবং ১৯৮০ তে তিনি রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হন।




Post a Comment

0 Comments