Header Ads Widget

চিত্রকলার জগতে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসুর কৃতিত্ব আলোচনা কর

 গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নন্দলাল বসু কীভাবে চিত্রকলার জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন তার পরিচয় দাও।
 অথবা, চিত্রকলা চর্চায় শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর স্থান
নিরূপণ করো। 

গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬৭-১৯৩৮ খ্রিঃ) : ইনি অবনীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা। বাঙালি এবং জাপানি শিল্পীর কাছে তিনি চিত্ররচনার পাঠ নিয়েছিলেন। ইউরোপীয় পদ্ধতি অনুসারে জল রঙের ব্যবহারও তাঁর চিত্রে দেখা যায়। অবনীন্দ্রনাথের মতো দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে গগনেন্দ্রনাথ ফরাসি রীতিকে অনুসরণ করেছেন। আধুনিক কার্টুন রচনাতেও তিনি দক্ষতা দেখিয়েছেন। হরিনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি জল রঙের শিক্ষা নেন। 

১৯০৬-১৯১০ খ্রিস্টাব্দ সময়পর্বে গগনেন্দ্রনাথ জাপানি ব্রাশ ব্যবহারের রীতি অনুসরণ করে ছবি এঁকেছেন। রবীন্দ্রনাথের আত্মজীবনী ‘জীবনস্মৃতি’র (১৯১২ খ্রিঃ) অলঙ্করণও তিনি করেছেন। সমকালের চিত্রকলার ‘কিউবিজম' মতবাদের প্রভাবও তাঁর চিত্রকলায় পড়েছে। ‘চৈতন্য’ এবং ‘তীর্থযাত্রী’ সিরিজের ছবিগুলি তার অনন্য সৃষ্টি। ১৯১৭-র সময়সীমায় গগনেন্দ্রনাথের বেশ কিছু কার্টুন চিত্র ‘মর্ডান রিভিউ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

নন্দলাল বসু (১৮৮২-১৯৬৬ খ্রিঃ) : বেঙ্গল স্কুল অব আর্টের ছাত্র, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রত্যক্ষ শিক্ষার্থী। আধুনিক ভারতীয় চিত্রকলার তিনি একজন মুখ্য ব্যক্তিত্ব। অজন্তার স্থাপত্য-ভাস্কর্য-চিত্রকলার দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। পৌরাণিক চিত্র, নারী, গ্রাম্যজীবন, প্রতিকৃতি সংক্রান্ত চিত্রকলায় তিনি পারদর্শী ছিলেন। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে শান্তিনিকেতনের কলাভবনের অধ্যক্ষ রূপে তিনি নিযুক্ত হয়েছিলেন। 

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-1484275427721582

১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে গান্ধিজির নেতৃত্বে অহিংসা আন্দোলন শুরু হলে নন্দলাল কর্তৃক সৃষ্ট সাদাকালো চিত্র—গান্ধিজির বলিষ্ঠ দণ্ডায়মান মূর্তি হাতে লাঠি নিয়ে অহিংস আন্দোলনের প্রতীকমূর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে যায়। ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের হরিপুরা অধিবেশনের জন্য গান্ধিজির অনুরোধে নন্দলাল সাতটি পোস্টার তৈরি করে দিয়েছিলেন। ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ভারতরত্ন এবং পদ্মশ্রী সম্মানের প্রতীক দুটি নন্দলাল বসুর সৃষ্টি।

 ভারতের সংবিধানের মূল কপিটি চিত্রায়িত এবং সৌন্দর্যায়নের কাজটিও করেছেন নন্দলাল। জার্মান শিল্পী অ্যালব্রেশ্ট দ্যুরার (১৪৭১-১৫২৮ খ্রিঃ) এবং ইতালীয় চিত্রশিল্পী র‍্যাফেল (১৪৮৩-১৫২০ খ্রিঃ) এর আদর্শের সমন্বয়ে নন্দলালের আধুনিক চিত্রভাবনা গড়ে উঠেছিল। বাঙালি শিল্পী হিসেবে ভারতীয় চিত্রকলাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব নন্দলাল বসুর। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রেরা হলেন—বিনোদবিহারী মজুমদার, রামকিঙ্কর বেইজ, প্রতিমা ঠাকুর, শোভন সোম, জহর দাশগুপ্ত, সবিতা ঠাকুর, বেহর রামমনোহর সিনহা, এ রামচন্দ্রন প্রমুখ। 

১৯৫৬ সালে দ্বিতীয় ভারতীয় শিল্প হিসেবে ললিত কলা আকাদেমি-র ফেলো হন, ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে পদ্মবিভূষণে ভূষিত হন, বিশ্বভারতী তাঁকে ‘দেশিকোত্তম' উপাধিতে ভূষিত হন।

Post a Comment

0 Comments