নিকৃষ্ট দ্রব্য ও গিফেন দ্রব্য (Inferior Goods and Giffen Goods) :
আয় প্রভাব // দাম প্রভাব // পরিবর্ত প্রভাব
নিকৃষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে ক্রেতার আয় বাড়লে দ্রব্যের চাহিদা কমে, তাই নিকৃষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে আয় প্রভাব ঋণাত্মক। নিকৃষ্ট দ্রব্যের দাম কমলে যে দাম প্রভাবের সৃষ্টি হয়, সেটি আয় প্রভাব ও পরিবর্ত প্রভাবের মিলিত ফল।
নিকৃষ্ট দ্রব্যের দাম কমলে ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা বা প্রকৃত আয় বেড়ে যায়, অর্থাৎ দাম কমে গেলে একই পরিমাণ দ্রব্য কেনার পর ক্রেতার হাতে কিছু অর্থ থেকে যায়। কিন্তু দ্রব্যটি নিকৃষ্ট দ্রব্য হওয়ার জন্য ক্রেতার হাতে বাড়তি অর্থ থাকা সত্ত্বেও দ্রব্যটির চাহিদা কমায়। একেই বলে আয় প্রভাব। তাই নিকৃষ্ট দ্রব্যের দাম কমার ফলে আয় প্রভাবের জন্য দ্রব্যটির চাহিদা কমে।
অপরদিকে আবার নিকৃষ্ট দ্রব্যের দাম কমার ফলে ঐ দ্রব্যটি অন্য দ্রব্যের তুলনায় সস্তা হয়ে যায়। ফলে ক্রেতা অপর দ্রব্যের চাহিদা কমিয়ে তার পরিবর্তে নিকৃষ্ট দ্রব্যটি বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে চায়। একেই বলে পরিবর্ত প্রভাব। সুতরাং নিকৃষ্ট দ্রব্যের দাম কমার ফলে পরিবর্ত প্রভাবের জন্য দ্রব্যটির চাহিদা বাড়ে। কারণ পরিবর্ত প্রভাব সর্বদাই ঋণাত্মক।
সুতরাং নিকৃষ্ট দ্রব্যের দাম কমার ফলে আয় প্রভাব ও পরিবর্ত প্রভাবের জন্য দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ কী হবে তা নির্ভর করে আয় প্রভাব ও পরিবর্ত প্রভাবের ক্ষমতার উপর। নিকৃষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে ঋণাত্মক আয় প্রভাব যদি পরিবর্ত প্রভাব অপেক্ষা কম শক্তিশালী হয় তাহলে দাম কমার ফলে দ্রব্যটির চাহিদা বাড়বে।
কারণ কমার ফলে ঋণাত্মক আয় প্রভাবের জন্য দ্রব্যটির চাহিদা যতটা কমবে, পরিবর্ত প্রভাবের জন্য চাহিদা বেশি বাড়বে। এই ধরনের নিকৃষ্ট দ্রব্যকে বলা হয় অ-গিফেন নিকৃষ্ট দ্রব্য।
আবার নিকৃষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে ঋণাত্মক আয় প্রভাব যদি পরিবর্ত প্রভাব অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী হয় তাহলে কমার ফলে দ্রব্যটির চাহিদা কমবে। কারণ দাম কমার ফলে ঋণাত্মক আয় প্রভাবের জন্য দ্রব্যটির চাহি কমবে পরিবর্ত প্রভাবের জন্য চাহিদা তা অপেক্ষা কম বাড়বে। এই ধরনের নিকৃষ্ট দ্রব্যকে বলা হয় গিয়ে । অর্থাৎ যে দ্রব্যের দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ কমে এবং দাম বাড়লে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে গিফেন দ্রব্য বলে।
সুতরাং নিকৃষ্ট দ্রব্য ও গিফেন দ্রব্যের মধ্যে পার্থক্য বর্তমান। কোনো দ্রব্য নিকৃষ্ট কিনা সেটি স্থির হয় ক্রেতার পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রব্যের চাহিদা পরিবর্তনের সম্পর্ক অনুসারে। ক্রেতার আয় বাড়লে যে দ্রব্যের চাহিদার কমে সেটি নিকৃষ্ট দ্রব্য। অপরদিকে কোনো দ্রব্য গিফেন দ্রব্য কিনা সেটি স্থির হয় দ্রব্যের দাম সাথে দ্রব্যটির চাহিদা পরিবর্তনের সম্পর্ক অনুসারে।
দ্রব্যের দাম কমলে যে দ্রব্যের চাহিদা কমে সেটি গিফেন দ্রব্য।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কোনো দ্রব্যকে গিফেন দ্রব্য হতে হলে সেটিকে অবশ্যই নিকৃষ্ট দ্রব্য হতে হবে। কারণ ঋণাত্মক আয় প্রভাব পরিবর্ত প্রভাব অপেক্ষা শক্তিশালী হলে তবেই দ্রব্যটি গিফেন দ্রব্য হয়। আবার আয় প্রভাব ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হল দ্রব্যটি নিকৃষ্ট দ্রব্য। অর্থাৎ দ্রব্যটিকে গিফেন দ্রব্য হতে হলে তাকে অবশ্যই নিকৃষ্ট হতে হবে। কিন্তু দ্রব্যটি নিকৃষ্ট দ্রব্য হলে সেটি যে অতি অবশ্যই গিফেন দ্রব্য হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
যে সমস্ত নিকৃষ্ট দ্রব্যের ক্ষেত্রে আয় প্রভাব পরিবর্ত প্রভাব অপেক্ষা বেশি শক্তিশালী, শুধুমাত্র সেই সমস্ত দ্রব্যই গিফেন দ্রব্য হয়। এই জন্যই বলা হয় সমস্ত গিফেন দ্রব্যই নিকৃষ্ট দ্রব্য, কিন্তু সমস্ত নিকৃষ্ট দ্রব্যই গিফেন দ্ৰব্য নয় (All Giffen goods are inferior goods but all inferior goods are not Giffen goods ) ।
0 Comments